দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে দায় এড়ানোর পর অবশেষে নিজের জালে নিজেই জড়িয়ে পড়ল পাকিস্তান (Pakistan)। ইসলামাবাদ স্বীকার করে নিল ২৬/১১ মুম্বই হামলার (26/11 attack) শিকড় ছিল তাদের মাটিতে। অবশ্য সরাসরি একথা স্বীকার করেনি পাকিস্তান। বরং আন্তর্জাতিক কোপের মুখে পড়ে নিজের পিঠ বাঁচাতে এবং লস্কর-ই-তইবার প্রধান হাফিজ সইদ ও সঙ্গীদের আড়াল করতে, ঘুরপথে সরকারি নথিতে এই স্বীকারোক্তি দিল শাহবাজ শরিফের সরকার।
পাকিস্তানের তদন্তকারী বিভাগ ফেডেরাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ) তাদের ‘রেড বুক’ নতুন করে আপডেট করেছে। যেখানে মোস্ট ওয়ান্টেড জঙ্গিদের নাম ও বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানেই রয়েছে, মুম্বইয়ে হামলাকারীদের তথ্য। করাচি থেকে যে দুটি বোটে করে ১০ জঙ্গি মুম্বই এসেছিল, সেই দুই বোটের ১১ জন ক্রু সদস্যদের নাম দেখা যাচ্ছে তালিকায়। পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে বোটের দুই চালক ও অপারেশনের ফান্ড জোগাড় করা ছ’জনের নাম। পাক তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, গত দু’দশকে এই ১৯ জনের কোনও হদিশ পাওয়া যায়নি। তাদের খোঁজ এখনও চলছে। অর্থাৎ ঘুরপথে হলেও এই তথ্যে পাকিস্তান স্বীকার করে নিল ২৬/১১ হামলার নীল নকশা তাদের মাটিতেই রচিত হয়েছিল।
যদিও ভারত বারবার জানিয়েছে, এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রী লস্কর প্রধান হাফিজ সইদ। তার সঙ্গে ছিল জাকিউর রহমান লাকভি, সাজিদ মির, আবু জিন্দাল, ডেভিড হাডলি। ইসলামাবাদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই সংক্রান্ত যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ পেশ করেছে ভারত। তার পরও এফআইএ-র রেড বুকে এদের নাম তোলা হয়নি। মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্র করেছিল লস্কর ও জইশ জঙ্গিরা। এই জঙ্গি সংগঠনের নামও মুখে আনেনি পাকিস্তান। ফলে রেড বুকে নাম উঠলেও এরা কোন জঙ্গি সংগঠনের সদস্য তা পাকিস্তান জানাতে রাজি নয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হল, হামলার মাস্টার মাইন্ড হাফিজ সইদের নাম রাখা হয়নি তালিকায়। তাতেই স্পষ্ট হয় যে, হাফিজকে বাঁচাতে কোনও খামতি রাখছে না শাহবাজ সরকার।
কিন্তু এতদিন পর হঠাৎ কেন সরকারি নথিতে মুম্বই হামলার জঙ্গিদের নাম তুলে ধরল পাকিস্তান? জানা যাচ্ছে, সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা হিসেবে পাকিস্তানের উপর দীর্ঘদিন ধরে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির। অতীতে তাদের অর্থসাহায্যও বন্ধ হয়েছে। পাকিস্তান বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রাপ্ত অর্থ সন্ত্রাসবাদে ব্যবহার করে কি না তা খতিয়ে দেখে রিপোর্ট পেশ করে ফিন্যান্সিয়ার অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)। তথ্য প্রমাণ হাতে এলেই ধূসর বা কালো তালিকাভুক্ত হয় দেশটি। সেই কোপে পড়ার ভয়েই এই তৎপরতা পাকিস্তানের। লোক দেখানো হলেও সম্প্রতি জইশ প্রধান মাসুদ আজাহারের মাথার উপর পুরস্কারমূল্য বাড়িয়েছে তারা।