RED

আজকের পত্রিকা

ইরান যুদ্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যতই গলাবাজি করুন না কেন, বাস্তব পরিস্থিতি বলছে এই যুদ্ধে (Iran-US War) ক্ষতির বহর বেড়েই চলেছে আমেরিকার। সদ্য যে রিপোর্ট সামনে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে, ইরান যুদ্ধের প্রথম চারমাসেই আমেরিকার ১১টি মডেলের অন্তত ৫২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে মার্কিন বায়ুসেনার প্রথম সারির যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, ট্যাঙ্কার বিমান ও উদ্ধারকারী চপার। শুধু তাই নয়, এই যুদ্ধে শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগনের এক পর্যবেক্ষক সংস্থার তরফে সোমবার ইরান যুদ্ধে আমেরিকার ক্ষয়ক্ষতির রিপোর্ট সামনে আনা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত যুদ্ধে ওয়াশিংটন ৩০টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন-সহ কয়েক ডজন বিমান খুইয়েছে। এর সঙ্গেই মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে থাকা অসংখ্য সামরিক ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই যুদ্ধের জেরে আমেরিকার গোলাবারুদের মজুত ব্যাপকভাবে কমে আসছে। যার জেরে সরবরাহ শৃঙ্খল বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম চার মাসে গোলাবারুদ বাবদ আনুমানিক ২২ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে আমেরিকার। এবং যুদ্ধের জেরে আমেরিকার মোট খরচ হয়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার।

পেন্টাগনের রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, যুদ্ধের জেরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ১১ জন সদস্যের মৃত্যু হয়েছে যুদ্ধরত অবস্থায়। এর পাশাপাশি আরও ৭ জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে। ৩০ জুন পর্যন্ত ইরানি হামলায় অন্তত ৪১৭ জন মার্কিন সেনা জওয়ান আহত হয়েছেন। যদিও ইরানের দাবি যে তথ্য আমেরিকা প্রকাশ করেছে বাস্তব ক্ষয়ক্ষতি তার চেয়ে আরও বহুগুণ বেশি।

উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধে আমেরিকার যে যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, এফ-৩৫এ। গত মার্চ মাসে ইরানের হামলায় ধ্বংস হয় বিমানটি। এছাড়া, এ–১০ মডেলের একটি অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, ৭টি কেসি-১৩৫ ট্যাঙ্কার বিমান, একটি ই–৩ সেন্ট্রি বিমান, এইচএইচ-৬০ডব্লিউ হেলিকপ্টার, ৪টি এএইচ-৬ হেলিকপ্টার, এএইচ-৬৪ অ্যাপাচে কপ্টার, এমএইচ-৬০এস কপ্টার-সহ আরও একাধিক বিমান ও ড্রোন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *