অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (Uniform Civil Code) নিয়ে এবার নিজের জোটশরিকেরই বাধার মুখে বিজেপি। দেশের অন্য যে রাজ্যেই ইউসিসি হোক, বিহারে সেটা কার্যকর হতে দেওয়া যাবে না। সাফ জানিয়ে দিল বিজেপির অন্যতম বৃহৎ শরিক জেডিইউ। জনতা দল ইউনাইটেডের শীর্ষনেতা শ্যাম রজক বলছেন, “আমাদের অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। কোনওভাবেই বিহারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হতে দেব না।’
রবিবারই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ঘোষণা করেছেন, আগামী ২ বছরের মধ্যে দেশের সব এনডিএ শাসিত রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হয়ে যাবে। তিনি বলেন, বিজেপি সরকারের রাজনীতি পুরোটাই পারফরম্যান্স ভিত্তিক। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে চলেছে বিজেপি সরকার। ২০১৪ সাল থেকে দেশের সুরক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। সার্জিক্যাল স্ট্রাইক, অপারেশন সিঁদুরের মতো একের পর এক কর্মকাণ্ডে মোদি সরকার বুঝিয়ে দিয়েছে, জঙ্গি কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারত জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী। একইভাবে দেশের অন্দরে নকশালদের খতম করেছে যেন অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা সুনিশ্চিত হয়। ইতিমধ্যেই কয়েকটা রাজ্যে আমরা অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর করেছি। ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের ২১টি এনডিএ শাসিত রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে বলে আমি আত্মবিশ্বাসী।”
শাহের সেই ঘোষণার পরই এনডিএর অন্দরে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। জেডিইউয়ের অন্দরে খবর, কোনওভাবেই বিহারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকরে রাজি নয় তাঁরা। কারণ বিহারে জেডিইউয়ের ভোটের একটা বড় অংশ সংখ্যালঘু। ফলে আপত্তি স্বাভাবিক। নীতীশ কুমার বরাবর অভিন্ন দেওয়ানি বিধির বিরোধিতা করে এসেছেন। সমস্যা হল নীতীশ এখন কার্যত অবসরে। দলের রাশ যাঁদের হাতে তাঁরা কার্যত বিজেপির হাতের পুতুল বলে অভিযোগ করে বিরোধীরা। এই পরিস্থিতিতে কিছুটা চাপের মুখে জেডিইউ নেতারা। সম্ভবত সে কারণে প্রকাশ্যেই বিজেপির ওই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা শুরু করে দিয়েছেন জেডিইউ নেতারা।
শ্যাম রজক বলছেন, “আমাদের এ নিয়ে অবস্থান শুরু থেকেই স্পষ্ট। কোনওভাবেই বিহারে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি কার্যকর হবে না।” নীতীশ কুমার যে নিজের আগের অবস্থান থেকে সরছেন না সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তাঁর দলের শীর্ষ নেতা। তাঁর সাফ কথা, “বিহারে মুখ্যমন্ত্রী বিজেপির হতে পারে। কিন্তু সরকারটা চলছে শরিকদের ভরসায়। আর সেটা ভুলে গেলে চলবে না।”