এষণা কুন্ডু, পলিটিক্যাল ডেস্ক ; নির্বাচনের আবহে ভাঙড়ে রাজনৈতিক উত্তাপ যখন তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায় জোর বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ভাঙড়ের বিজেপি প্রার্থী জয়ন্ত গাইনের বাড়িতে হাজির হন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী সওকাত মোল্লা। দুই বিরোধী শিবিরের প্রার্থীর এই সাক্ষাৎ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
সূত্রের খবর, এদিন সকালে সওকাত মোল্লা সরাসরি জয়ন্ত গাইনের বাড়িতে পৌঁছন। সেখানে দু’জনকে একসঙ্গে হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যায়। শুধু তাই নয়, বিজেপি প্রার্থীর মা সওকাত মোল্লার মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদও করেন। এই ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়, আর তাতেই শুরু হয় ‘সেটিং’ বিতর্ক।
রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যেখানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়মিতভাবে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-কে আক্রমণ করে চলেছেন, সেখানে ভাঙড়ে এই ভিন্ন ছবি স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলেছে। বিরোধীদের দাবি, ময়দানে যতই রাজনৈতিক লড়াইয়ের কথা বলা হোক, অন্তরালে নাকি অন্য সমীকরণ কাজ করছে।
এদিকে, বিজেপির অন্দরেও অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে। দলীয় সূত্রে খবর, প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে জয়ন্ত গাইন এখনও পর্যন্ত সেভাবে প্রচারে নামেননি। এমনকি সংবাদমাধ্যমের সামনেও তাঁকে খুব একটা দেখা যায়নি। ফলে তাঁর সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, জয়ন্ত গাইনের সঙ্গে সওকাত মোল্লার ব্যক্তিগত সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গাইনের পরিবারের সদস্যদের একাংশ তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত—তাঁর ভাই নাকি তৃণমূলের বুথ সভাপতি এবং দিদি পঞ্চায়েত প্রধান পদে রয়েছেন। এই তথ্য সামনে আসার পর থেকেই ‘গোপন সমঝোতা’র অভিযোগ আরও জোরালো হয়েছে।
এই ঘটনার জেরে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। বিশেষ করে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং সিপিএম নেতৃত্ব এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূল ও বিজেপি—উভয়কেই কটাক্ষ করেছে। তাঁদের বক্তব্য, “মাঠে লড়াইয়ের নাটক চলছে, কিন্তু ভিতরে ভিতরে সমঝোতা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
তবে এই বিতর্ক নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রকাশ্যে কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি জয়ন্ত গাইন বা সওকাত মোল্লা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘটনা ভোটারদের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে এবং এর প্রভাব ভোটবাক্সে পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, ভাঙড়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখন দেখার, এই ‘সেটিং’ বিতর্ক কতটা প্রভাব ফেলে নির্বাচনী ফলাফলে এবং সংশ্লিষ্ট প্রার্থীরা এ নিয়ে কী ব্যাখ্যা দেন।















