এষণা কুন্ডু , নিউজ ডেস্ক ; শিল্পী লগ্নজিতার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের আলোচনায় উঠে এল সঙ্গীত শিল্পী মধুবন্তী মুখার্জির নাম। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে মাজদিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ করেছেন তিনি। সেই পোস্ট এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে।
মধুবন্তী মুখার্জির দাবি, গত ২১ ডিসেম্বর মাজদিয়ায় একটি শো করতে গিয়েই তিনি এই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন। নিজের ফেসবুক পেজে তিনি লেখেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের সংগীতজীবনে এরকম পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনও হতে হয়নি। সেদিন যা ঘটেছে, তা তাঁর কাছে অত্যন্ত অস্বস্তিকর এবং দুঃখজনক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্টে শিল্পী জানান, ঘটনাটি ঘটলেও তিনি কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি। তাঁর বক্তব্য, অনুষ্ঠানের আয়োজকরা বিষয়টি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেন এবং পরবর্তীতে তাঁদের ভূমিকা যথেষ্ট দায়িত্বশীল ছিল। সেই কারণেই তিনি আইনি বা প্রশাসনিক পথে না গিয়ে অভিযোগ না করার সিদ্ধান্ত নেন।
উত্তরপাড়ার বাড়িতে বসে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মধুবন্তী বলেন,
“আমি প্রায় ১৮ বছর ধরে মঞ্চে গান গাইছি। এত বছরে এই ধরনের অভিজ্ঞতা আমার কখনও হয়নি। সেদিন যা হয়েছে, তা খুবই খারাপ। একজন শিল্পীর নিজের কাজ করার স্বাধীনতা থাকা উচিত। মঞ্চে দাঁড়িয়ে গান গাওয়ার সময় কোনও শিল্পী যেন ভয়ের মধ্যে না থাকেন, সেটাই কাম্য।”
তিনি আরও জানান, মাজদিয়ার ওই অনুষ্ঠানের আয়োজকদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই। বরং ঘটনার পর তাঁরা যেভাবে বিষয়টি সামাল দিয়েছেন, তাতে তিনি সন্তুষ্ট।
“ওখানকার আয়োজকরা খুব ভালো ছিলেন। ঘটনার পর তাঁদের ভূমিকা ইতিবাচক ছিল। সেই কারণেই আমি অভিযোগ করিনি,” বলেন মধুবন্তী।
তবে একইসঙ্গে শিল্পী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ থামবে না। আইনি পথে না গেলেও, নিজের গানের মাধ্যমেই তিনি প্রতিবাদ চালিয়ে যাবেন বলে জানান। তাঁর কথায়,
“প্রতিবাদ চলবে, তবে তা গানের মধ্য দিয়েই। শিল্পীর কণ্ঠস্বরই তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি।”
উল্লেখ্য, এর আগে সম্প্রতি শিল্পী লগ্নজিতার সঙ্গে মঞ্চে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসে, যা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র আলোচনা শুরু হয়। সেই আবহেই মধুবন্তী মুখার্জির এই পোস্ট নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—মঞ্চে শিল্পীদের নিরাপত্তা ও সম্মান কতটা সুনিশ্চিত?
শিল্পীমহলের একাংশ মনে করছেন, বারবার এই ধরনের ঘটনা সামনে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। যদিও আয়োজকদের তরফে বহুক্ষেত্রেই সহযোগিতার হাত বাড়ানো হয়, তবু সামগ্রিকভাবে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে মত তাঁদের।
মধুবন্তী মুখার্জির এই পোস্ট আপাতত সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন ফেলেছে। অনেকেই তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে সমর্থন জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ শিল্পীদের জন্য আলাদা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবিও তুলেছেন। সব মিলিয়ে, এই ঘটনা আবারও শিল্পীদের সম্মান, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।














