এষণা কুন্ডু, পলিটিক্যাল ডেস্ক ; বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা দেশ ও আন্তর্জাতিক মহলে যখন তীব্র ক্ষোভ ও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে, সেই সময় মানবিকতার বার্তা নিয়ে এগিয়ে এলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সম্প্রতি দিপু চন্দ্র দাসের পিতা-মাতার সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা বলেন এবং তাঁদের পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় আশ্বাস দেন।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফোনালাপে শুভেন্দু অধিকারী প্রথমেই দিপু চন্দ্র দাসের পিতা-মাতার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার খোঁজ নেন। সন্তান হারানোর গভীর যন্ত্রণার মধ্যেও তাঁরা কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন, তা মনোযোগ সহকারে শোনেন তিনি। কথোপকথনের এক পর্যায়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনাদের পরিবারের পাশে আমরা সবাই আছি। আপনারা একা নন।”
এই ফোনালাপেই শুভেন্দু অধিকারী দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের বর্তমান আর্থিক অবস্থার কথা জানতে চান। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিপু চন্দ্র দাসের পিতা-মাতা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সমস্যার কথা জানালে তিনি তাঁদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর নিতে অনুরোধ করেন। এরপরই তিনি তাতে আর্থিক সহায়তা পাঠান বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে শুভেন্দু অধিকারী বলেন,
“গোটা বিশ্বের হিন্দুরা এই ঘটনার জন্য দুঃখিত। এটি শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, এটি গোটা হিন্দু সমাজের বেদনা। আপনাদের যদি কোনও ধরনের সহযোগিতা লাগে, আমাদের জানাবেন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি।”
তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান,
“গোটা পৃথিবীর হিন্দু আপনাদের পাশে আছে। এই লড়াইয়ে আপনারা একা নন।”
শুভেন্দু অধিকারীর এই সহানুভূতিশীল আচরণে দিপু চন্দ্র দাসের পরিবার আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ে। , ফোনালাপের শেষে দিপুর পরিবার এই সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান, এই মানবিক সহানুভূতি তাঁদের মানসিক শক্তি জোগাচ্ছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতনের একাধিক ঘটনা সামনে এসেছে। মন্দির ভাঙচুর, বসতবাড়িতে হামলা, প্রাণনাশের মতো অভিযোগ সামনে আসায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ বেড়েছে। ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন এই ঘটনাগুলির নিন্দা জানিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে শুভেন্দু অধিকারীর এই পদক্ষেপ শুধুমাত্র রাজনৈতিক অবস্থান নয়, বরং এক মানবিক বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ধরনের ব্যক্তিগত উদ্যোগ সংকটের সময়ে আক্রান্ত পরিবারগুলিকে ভরসা জোগায় এবং বৃহত্তর সমাজের দায়িত্ববোধকে সামনে আনে।
এদিকে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, দিপু চন্দ্র দাসের পরিবারের পাশে ভবিষ্যতেও তিনি থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু নির্যাতনের বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মঞ্চে তুলে ধরার জন্য তিনি ও তাঁর দল প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারীর ভূমিকা একদিকে যেমন মানবিক সহানুভূতির প্রতিফলন, অন্যদিকে তেমনই সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সচেতনতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।













