দেশীয় উদ্ভাবন ও ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোগকে সামনে রেখে ‘উৎকর্ষ উদ্যোগী সমাগম – দ্বিতীয় বাংলা সংস্করণ’ আয়োজন হতে চলেছে দেশের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান IIT খড়গপুরে। এই সমাগমের মূল ভাবনা— দেশীয় উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিকশিত ভারত—যা একইসঙ্গে IIT খড়গপুরের ৭৫ বছর পূর্তি এবং স্বাবলম্বী ভারতের ভিশনকে তুলে ধরছে।
২০২৪-৪৭ সালের বিকশিত ভারতের পথে এগোতে উদ্যোক্তাদের ভূমিকা যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা মাথায় রেখেই এই সমাগমের আয়োজন। শুধু স্টার্টআপ নয়, গ্রামীণ উদ্যোগ, কারিগর, সমবায় ও ঐতিহ্যবাহী শিল্পক্ষেত্রকেও ডিজিটাল ক্ষমতায়নের আওতায় আনাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
এই একদিনের কনক্লেভটি আয়োজন করছে COE-IKS, IIT খড়গপুর, সহযোগিতায় রয়েছে সহকার ভারত, ইকোসিস্টেম ডিজিটাল ইন্ডিয়া, বেঙ্গল ফার্স্ট ফাউন্ডেশন এবং স্বদেশী জাগরণ মঞ্চ। আয়োজকদের দাবি, এই মঞ্চ ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে ভারতের প্রথাগত শিল্প ও উদ্যোগকে নতুন দিশা দেখাবে।
উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য
এই সমাগমের মাধ্যমে—
• দেশীয় উদ্যোক্তা, সমবায় ও কারিগরদের একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা
• একাডেমিয়া, শিল্প ও ঘাসমূল স্তরের উদ্যোগের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি
• প্রথাগত জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে টেকসই উন্নয়ন
• সমবায় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগকে উৎসাহিত করা
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশজুড়ে সাফল্যের গল্প তুলে ধরা ও কমিউনিটি-নির্ভর উদ্যোগকে জাতীয় স্তরে পরিচিত করানো হবে।
মূল লক্ষ্য: পুনর্জাগরণ – সম্মান – পুনর্গঠন
এই সমাগমের মূল দর্শন তিনটি স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে—
• পুনর্জাগরণ (Revive): হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী শিল্প, হস্তশিল্প ও সংস্কৃতির পুনরুদ্ধার
• সম্মান (Respect): কারিগর, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও ঘাসমূল উদ্ভাবকদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে স্বীকৃতি
• পুনর্গঠন (Rebuild): আধুনিক ডিজিটাল টুলস ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার মাধ্যমে টেকসই বিকাশ
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতি ও বক্তৃতা ইতিমধ্যেই নিশ্চিত হয়েছে।
‘রিভাইভ–রেসপেক্ট–রিবিল্ড’—এই তিন মূল লক্ষ্যকে সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী শিল্প ও সংস্কৃতির পুনর্জাগরণ, স্থানীয় উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকদের যথাযথ স্বীকৃতি এবং আধুনিক ডিজিটাল সরঞ্জামের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়নের বার্তা দেওয়া হবে।
উৎকর্ষ উদ্যোগী সমাগম শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং ভারতের ঐতিহ্যভিত্তিক উদ্যোগকে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করে একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বনির্ভর উদ্যোক্তা পরিবেশ গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।















