জেসপ কোম্পানি পুনরুজ্জীবনের দাবিতে ফের আন্দোলনে নামলেন শ্রমিক ও কর্মচারীরা। ২০১৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি সংসদে জেসপ সংক্রান্ত বিল পাশ হলেও, দিল্লীর কনসেন্ট না মেলায় কোম্পানি খোলার প্রক্রিয়া আটকে রয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তাঁদের দাবি, শুধু কেন্দ্রের কনসেন্ট পেলেই পশ্চিমবঙ্গ সরকার উদ্যোগ নিয়ে জেসপ কোম্পানি খুলতে পারে, তাতে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে।
জানা গিয়েছে, বিল পাশ হওয়ার পর শ্রমিক প্রতিনিধিরা দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, শ্রমমন্ত্রী ও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে কোনও চূড়ান্ত সম্মতি বা কনসেন্ট দেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারীদের দাবি, কেন্দ্রের কোনও আর্থিক সাহায্য লাগবে না, শুধুমাত্র প্রশাসনিক কনসেন্ট দিলেই রাজ্য সরকার জেসপ কোম্পানি পুনরায় চালু করতে পারবে।
চাকরি ও পাওনা ফেরতের আশায় আন্দোলন
আন্দোলনকারীদের বক্তব্য, জেসপ কোম্পানি খুলে গেলে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের চাকরি নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি, যাঁরা ইতিমধ্যে মারা গেছেন বা অবসর নিয়েছেন, তাঁরা বা তাঁদের পরিবার প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) ও গ্র্যাচুইটি-সহ সমস্ত প্রাপ্য পাওনা পাবেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সরকারের উদাসীনতার জেরে সেই প্রক্রিয়া থমকে রয়েছে।
এই দাবিকে সামনে রেখেই সম্প্রতি ১২ নম্বর জেসপ গেট থেকে এয়ারপোর্ট ১ নম্বর গেট পর্যন্ত একটি মিছিল সংগঠিত করা হয়। আন্দোলনকারীরা সেখানে পৌঁছে প্রায় ১৫ মিনিটের প্রতীকী অবরোধ করেন এয়ারপোর্ট ১ নম্বর গেটে। পরে সেখানে একটি সংক্ষিপ্ত সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, গত মঙ্গলবার জেসপ গেটের সামনে একটি সভা করে জানানো হয় যে ১৬ হাজার লোককে চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সরকার কোনও পদক্ষেপই নিচ্ছে না। তাঁদের প্রশ্ন, সংসদে কেন এই বিষয়টি উত্থাপন করা হচ্ছে না? কেন এত গুরুত্বপূর্ণ একটি শ্রমিকস্বার্থ সংক্রান্ত ইস্যু কেন্দ্রের স্তরে উপেক্ষিত হচ্ছে?
পরিকাঠামো প্রস্তুত, তবু সিদ্ধান্ত নেই
আন্দোলনকারীরা জানান, বন্দে ভারত প্রকল্পের জন্য একটি সমীক্ষা করা হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে EMU কোচ ও ER-এর বিভিন্ন স্ট্রাকচার ইতিমধ্যেই প্রস্তুত রয়েছে। অর্থাৎ প্রযুক্তিগত বা পরিকাঠামোগত কোনও সমস্যা নেই। তবুও বারবার দিল্লিতে আবেদন জানানো হলেও কোনও কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
তাঁদের দাবি, অবিলম্বে কেন্দ্রীয় সরকার যেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে প্রয়োজনীয় কনসেন্ট দেয়, যাতে রাজ্য সরকার দ্রুত জেসপ কোম্পানি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করতে পারে।
জমি অধিগ্রহণের অভিযোগ
এছাড়াও আন্দোলনকারীরা একটি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তাঁদের দাবি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের কিছু নেতা ও ঘনিষ্ঠ মহল জেসপ কোম্পানির জমি অধিগ্রহণ করতে চাইছেন। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে কোম্পানি খোলার বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে বলে সন্দেহ তাঁদের। শ্রমিকদের আশঙ্কা, যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তবে জেসপের জমি শিল্পের বদলে অন্য স্বার্থে ব্যবহার হয়ে যেতে পারে।
আন্দোলন জারি রাখার হুঁশিয়ারি
এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন চলবে। প্রয়োজনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের পথেও তাঁরা হাঁটবেন। তাঁদের একটাই দাবি—
দিল্লি থেকে অবিলম্বে কনসেন্ট দেওয়া হোক এবং জেসপ কোম্পানি খুলে শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করা হোক।















