এষণা কুন্ডু , নিউজ ডেস্ক ; কনকনে শীতের সঙ্গে ঘন কুয়াশার দাপটে কার্যত বিপর্যস্ত জলপাইগুড়ি। রাত নামলেই জাতীয় সড়কে দৃশ্যমানতা কমে যাচ্ছে ভয়ঙ্করভাবে। কোথাও কোথাও কয়েক ফুটের বেশি দেখা যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল জলপাইগুড়ি ট্রাফিক পুলিশ।
গত কয়েকদিন ধরেই জলপাইগুড়ি জেলায় জাঁকিয়ে শীত পড়েছে। তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। সন্ধ্যার পর থেকেই কুয়াশার ঘনত্ব বাড়তে শুরু করে, যা গভীর রাত ও ভোরের দিকে আরও ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। ফলে জাতীয় সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে চরম সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিশেষ করে ট্রাক, বাস ও পণ্যবাহী গাড়ির চালকদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বেশি। কম দৃশ্যমানতার কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা। এমন পরিস্থিতিতে চালকদের সতর্ক ও সজাগ রাখতে মাঝরাতে জাতীয় সড়কের ধারে অভিনব উদ্যোগ নেয় ট্রাফিক পুলিশ।
গরম জল ও ধোঁয়া ওঠা গরম চা দিয়ে দূরপাল্লার গাড়ির চালকদের আপ্যায়ন করছেন ট্রাফিক পুলিশের কর্মীরা। শীতের মধ্যে এই উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়ে খুশি চালকরাও। পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি কুয়াশায় হর্ন বাজিয়ে ও পর্যাপ্ত দূরত্ব বজায় রেখে চলার কথাও বলা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শীত ও কুয়াশার কারণে চালকদের চোখে ঘুম চলে আসে, শরীর অবসন্ন হয়ে পড়ে। সেই কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। চালকদের চনমনে রাখতেই এই উদ্যোগ। পুলিশ মনে করছে, সামান্য গরম চা ও জল চালকদের মধ্যে সতর্কতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।
এদিকে কেবল চালকরাই নন, শীত ও কুয়াশার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের জীবনেও। সকাল ও রাতের দিকে প্রয়োজন ছাড়া মানুষ বাড়ির বাইরে বেরোতে পারছেন না। যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মস্থল পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে অনেকের।
দূরপাল্লার গাড়ির চালক মুকেশ সিং বলেন, “ঘন কুয়াশার কারণে কিছুই ঠিকভাবে দেখা যাচ্ছে না। এমন অবস্থায় গাড়ি চালানো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পুলিশ গরম চা দিয়ে আমাদের চাঙ্গা রাখার চেষ্টা করছে, এতে অনেকটাই উপকার হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ বসাক জানান, “সন্ধ্যার পর থেকে রাস্তায় কুয়াশা এতটাই ঘন হয়ে যায় যে সামনে কিছু বোঝা যায় না। এই অবস্থায় দুর্ঘটনার ভয় সব সময় থাকে।”
আর এক বাসিন্দা ইদ্রিস আলি বলেন, “শীত আর কুয়াশার জন্য সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও প্রভাব পড়ছে। যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যতদিন এই কুয়াশা ও শীতের পরিস্থিতি থাকবে, ততদিন জাতীয় সড়কে নজরদারি বাড়ানো হবে। দুর্ঘটনা এড়াতে প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
শীতের এই দাপটে জলপাইগুড়ির জাতীয় সড়কে পুলিশ যে মানবিক মুখ দেখাল, তা চালক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তির বার্তা দিচ্ছে।















