ছবির গলদে শুনানি, বিপাকে ভোটার

এনুমারেশন ফর্মে থাকা ছবির সঙ্গে ভোটার কার্ডের ছবির অমিলকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে নির্বাচন দপ্তরের কাজকর্ম। একই এপিক নম্বর,.....

Hearing on flaws in the photo, voters in trouble.
Hearing on flaws in the photo, voters in trouble.

এনুমারেশন ফর্মে থাকা ছবির সঙ্গে ভোটার কার্ডের ছবির অমিলকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্নের মুখে নির্বাচন দপ্তরের কাজকর্ম। একই এপিক নম্বর, একই নাম, ঠিকানা, বুথ ও অংশ নম্বর—সব তথ্য মিললেও শুধুমাত্র ছবির অমিলের কারণে কলকাতা থেকে দুর্গাপুরে এসে শুনানিতে হাজির হতে হলো এক ভোটারকে। ঘটনাটি ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরীর বাসিন্দা বিদ্যাপতি সীমান্ত অধিকারী শনিবার দুর্গাপুর সরকারি মহাবিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত শুনানিতে উপস্থিত হন। তাঁর অভিযোগ, বহু বছর ধরেই তিনি বৈধভাবে ভোটার কার্ড ব্যবহার করে আসছেন। কোনওদিনই তাঁর পরিচয় বা ভোটাধিকার নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি। অথচ হঠাৎ করেই নির্বাচন দপ্তরের তরফে তাঁকে জানানো হয়, এনুমারেশন ফর্মে ব্যবহৃত ছবির সঙ্গে বর্তমান ভোটার কার্ডের ছবির নাকি মিল নেই। সেই কারণ দেখিয়েই তাঁকে শুনানিতে হাজির হতে বলা হয়।

সীমান্ত অধিকারীর বক্তব্য, “নাম, ঠিকানা, এপিক নম্বর—সব কিছু একেবারে ঠিক আছে। এমনকি বুথ ও অংশ নম্বরও একই। শুধুমাত্র ছবির অমিলের কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এই ছবি তো আমি নিজে ব্যবহার করিনি। ছবি তোলা, সংরক্ষণ ও আপডেট করার দায়িত্ব পুরোপুরি নির্বাচন কমিশনের। সেখানে যদি কোনও ভুল হয়ে থাকে, তার দায় কেন একজন সাধারণ ভোটারকে বহন করতে হবে?”

তিনি আরও বলেন, ভোটার কার্ড বহুদিন ধরেই তাঁর কাছে রয়েছে এবং প্রতিবার নির্বাচনেই তা গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। হঠাৎ করে এই ধরনের ‘অস্বাভাবিক’ সমস্যার সৃষ্টি হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে বিরক্ত ও উদ্বিগ্ন। “কলকাতা থেকে এখানে এসে শুনানিতে বসতে হয়েছে। এতে সময়, অর্থ ও মানসিক চাপ—সবই বেড়েছে। আমার কোনও দোষ না থাকা সত্ত্বেও কেন আমাকে এই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হবে, তা বোধগম্য নয়,” বলেন তিনি।

এই ঘটনা ঘিরে বড় প্রশ্ন উঠছে—তাহলে গলদটা কোথায়? যদি সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্য এক হয়, তাহলে শুধুমাত্র ছবির অমিলকে ভিত্তি করে ভোটারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কতটা যুক্তিযুক্ত? নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকের মতে, প্রশাসনিক গাফিলতি বা প্রযুক্তিগত ত্রুটির খেসারত সাধারণ নাগরিকদের দিতে হওয়া কোনওভাবেই কাম্য নয়।

শুনানি শেষে সীমান্ত অধিকারী স্পষ্টভাবে জানান, তিনি আশা করেন বিষয়টি দ্রুত মিটে যাবে এবং ভবিষ্যতে যেন তাঁকে আর এ ধরনের শুনানির জন্য ডাকা না হয়। “আমি চাই না আমার মতো অন্য কোনও ভোটারকে এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হোক,” বলেন তিনি।

এদিকে, সীমান্ত অধিকারীর শুনানির পর এই বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি দুর্গাপুরের মহকুমাশাসক সৌরভ বিশ্বাস। প্রশাসনের নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে বলে মত স্থানীয়দের।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, ভোটার তালিকা সংশোধন ও তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়ায় সামান্য ত্রুটিও সাধারণ মানুষের জন্য বড় সমস্যার কারণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচন কমিশনের কাছে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—এই ধরনের ভুল দ্রুত সংশোধন করা এবং ভবিষ্যতে যাতে কোনও বৈধ ভোটার অযথা হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা।

Thank You for Reading – Political Daily

Thank you for taking the time to read our news at Political Daily.
We appreciate your trust in our platform as your source for reliable and timely Indian news.Your support encourages us to continue delivering accurate, unbiased, and impactful stories that matter to you.

Stay informed. Stay connected.
– Political Daily