এষণা কুন্ডু, পলিটিক্যাল ডেস্ক ; বাংলাদেশে বাঙালি হিন্দু দীপু দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানালেন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রাজ্য বিজেপি প্রধান কার্যালয়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি এই ঘটনাকে শুধু সাম্প্রদায়িক হত্যাকাণ্ড নয়, বরং বাংলাদেশের ইউনুস সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ বলে মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, পুলিশি হেফাজত থেকে এক নিরীহ হিন্দু যুবককে উন্মত্ত জনতার হাতে তুলে দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “এটি সভ্য সমাজে অকল্পনীয়। বিশ্বের সামনে বাংলাদেশের প্রকৃত চিত্র উঠে এসেছে।”
এই ঘটনার প্রতিবাদে কলকাতায় বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনাকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন বিরোধী দলনেতা। তাঁর দাবি, বেকবাগান এলাকায় পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জে অন্তত আট থেকে দশজন আন্দোলনকারী আহত হন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের চিত্তরঞ্জন, পিজি, এনআরএস এবং প্রয়োজনে কল্যাণী এইমস ও বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজন হিন্দু কর্মীকে পুলিশ আটক করেছে বলেও তিনি জানান।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, আন্দোলনকারীরা কোনওভাবেই বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের সুরক্ষিত ব্যারিকেড ভাঙেননি। তা সত্ত্বেও হিন্দু পরিচয় ও গেরুয়া পতাকা বহনের কারণে বেছে বেছে লাঠিচার্জ করা হয়েছে। জলকামান বা ভিড় নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য পদ্ধতি থাকা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে এই বর্বরতা চালানো হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাঁর মতে, এতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের হিন্দু-বিরোধী মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর যে নির্যাতন চলছে, পশ্চিমবঙ্গেও তেমনই প্রতিবাদী কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা হচ্ছে। ধুলিয়ান–সামসেরগঞ্জের ঘটনা এবং বাংলাদেশের দীপু দাস হত্যার ধরন তুলনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “শুধু স্থান ও সময় আলাদা, চরিত্র এক। এপার-ওপার দুই বাংলাতেই বাঙালি হিন্দুর উপর একই ধরনের আগ্রাসন চলছে।”
আগামী দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিরোধী দলনেতা জানান, এই ইস্যুতে আন্দোলন আরও তীব্র হবে। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় প্রতীকী অবরোধ কর্মসূচি নেওয়া হবে এবং আগামী ২৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ডেপুটি হাই কমিশনের সামনে বৃহত্তর গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগঠিত করা হবে। তিনি বলেন, ডেপুটি হাই কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য বারবার আবেদন জানানো হয়েছে এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
দীপু দাসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানান, বিজেপি পরিবারের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করবে এবং আইনি ও আর্থিক সহায়তার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশ-বিদেশের সমস্ত হিন্দু সমাজকে শান্তিপূর্ণভাবে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শামিল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে বিরোধী দলনেতা বলেন, “এটি কোনও রাজনৈতিক ইস্যু নয়। এটি মানবতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অস্তিত্বের প্রশ্ন। বাঙালি হিন্দুদের ভূমিতে হিন্দু নির্যাতন হলে তার প্রতিবাদ হবেই, এবং সেই প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক ও ঐক্যবদ্ধভাবেই চলবে।”














